অস্ত্র হাতে হামলার ভিডিও ভাইরাল, শনাক্তে ব্যর্থ প্রশাসন
চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ-এ ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে হামলার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও জড়িতদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিক্ষোভের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবককে ধারালো দেশীয় অস্ত্র—কিরিচ ও রামদা—হাতে নিয়ে দৌঁড়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তাদের কারও মুখ কাপড় বা মাস্কে ঢাকা, আবার কেউ হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলো। তারা সংঘর্ষে অংশ নিতে দ্রুত গতিতে অপর পক্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো।
তবে এসব অস্ত্রধারী ব্যক্তি কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ শুরুর পরপরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও করিডরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন এটিকে পরিকল্পিত হামলা দাবি করে জানান, তিনিও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের ওপর ছাত্রশিবির হামলা চালিয়েছে এবং তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার পেছনে ‘গ্রাফিতি’ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও কলেজ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিলো। পরে ওই লেখার ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা হয়—যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, হামলায় অংশ নেয়া অস্ত্রধারীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তাদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























