ডলার বিক্রি ছাড়াই এক বছর:গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, গত এক বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এক ডলারও বিক্রি করা হয়নি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট থেকে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
রোববার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা ছিল প্রধান লক্ষ্য। তাই এক বছরের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম চাপ না বাড়িয়ে মুদ্রাবাজারে স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঋণপত্র (এলসি) পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে ২০০-র বেশি বিদেশি ব্যাংক এলসি বন্ধ করে দিয়েছিল। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অনুরোধ করেছিল বন্ধ না করতে এবং আশ্বাস দিয়েছিল যে বকেয়া পরিশোধে কোনোরকম ব্যত্যয় ঘটবে না। তখন ২.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল, যা ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হয়।
মনসুর জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রফতানি আয় বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিটি বিদেশি ব্যাংক আগের অবস্থায় ফিরেছে এবং কেউ কেউ তাদের ক্রেডিট লাইনও বাড়িয়েছে।
দুবাইভিত্তিক এগ্রিগেটরদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, তাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ১২২ টাকার রেটে ডলার বিক্রি করতে হবে, অন্যথায় তাদের কাছ থেকে ডলার কেনা হবে না। তারা চাইলে সাময়িকভাবে ডলার ধরে রাখতে পারে, কিন্তু বাস্তবে পাঁচ থেকে সাত দিনের বেশি ধরে রাখার ক্ষমতা তাদের নেই।
গভর্নরের মতে, এসব পদক্ষেপ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সবার দেশ/এফও




























