লালমনিরহাটে গ্রেফতার ২
মেয়ের শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে বাবাকে কুপিয়ে জখম
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তার বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সুমন মিয়া (২২) এবং তার বাবা সামিউল ইসলাম (৪৮)। তাদের বাড়ি জগতবাড়ি ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার পঁচাভান্ডার এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১১) পথরোধ করে শ্লীলতাহানি করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন শাওন মিয়া, রিফাত হোসেন ও সুমন মিয়া। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রীর বাবা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের একটি আঙুল কেটে যায় বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়া ও সামিউল ইসলামকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবার দেশ/কেএম




























