Sobar Desh | সবার দেশ সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৫০, ১১ জুলাই ২০২৬

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি

সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা, প্লাবিত ৬০ গ্রাম

সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা, প্লাবিত ৬০ গ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে দুই জেলার অন্তত ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তা দ্রুত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আশঙ্কা করছে, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পুরো বিভাগেই বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এদিকে মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে তলিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আশরাফ আলী ওরফে আশই মিয়া (৭০) রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ধারণা, বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত বন্যার পানির স্রোতে পড়ে তিনি নিখোঁজ হন এবং পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পাউবো জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ে অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং নিম্নাঞ্চলগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে পানির নিচে ৩৫ গ্রাম

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজনগর উপজেলার আকুয়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বন্যার পানি। এতে টেংরা ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পণ্ডিতনগর, রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গণেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর ও ভাঙ্গারহাটসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম।

টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ

হবিগঞ্জেও টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ করেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অর্ধলাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাছুলিয়া পয়েন্টের শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ায় স্থানীয়রা বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।

হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক ডা. জিএম সরফরাজ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্ক অবস্থান

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলার ১১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাইঘাটে সুরমা নদী, জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদী এবং ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

পাউবোর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, মেঘালয়ে আগামী অন্তত তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে সিলেটের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জে এখনও নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা প্রশাসন প্রতিটি উপজেলায় তথ্যকেন্দ্র চালু করেছে এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জ ও ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জেলায় ৭৭ মিলিমিটার এবং লাউড়েরগড় এলাকায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যাদুকাটা নদীর পানিও এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

কোলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে নিহত ২০, যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়াবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স: বাণিজ্যমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ডে তালাক বন্ধ হয়েছে: চিফ হুইপ
বিক্ষোভে উত্তাল প্যারিস, আটক শতাধিক
হৃদয় ভেঙে দিয়েছে, মায়ের আর্তনাদ সহ্য করতে পারছি না-তৌসিফ মাহবুব ও ইরফান সাজ্জাদ
পুলিশে আসছে বড় নিয়োগ, ২৪৬৭৭ পদ সৃষ্টির উদ্যোগ
বনানীতে ‘জলজ’ থিমে দুর্গোৎসব
ফিফা সভাপতি ঢাকায় আসছেন আজ
অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, উঠেছে আইনি প্রশ্ন
শার্শায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৩
ছাত্রদলনেতা হত্যায় দণ্ডিতরাও যুবদলের কমিটিতে, বিতর্কিত অর্ধশতাধিক
রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
ক্লিনটন-ওবামার বিরুদ্ধে চাইলেই বড় পদক্ষেপ নিতে পারি: ট্রাম্প
গাজীপুরে ইবনে সিনার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ এনসিপির তিন দাবি
রাজনীতিবিদরা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বিকৃত করে লিখেছে: স্পিকার
বিকৃত পর্নো ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি
রিসোর্টের আগুনে একই পরিবারের ৬ জন নিহত