যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন শুরু হয়েছে। পহেলা বৈশাখ মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে যশোর পৌর উদ্যানে উদীচীর বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে নববর্ষের যাত্রা সূচিত হয়।
সকাল সাড়ে ৮টায় টাউন হল ময়দান থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। রং বেরংয়ের পোশাক পরে পশু পাখির প্রতিকৃতি ও মুখোশ নিয়ে হাজারো মানুষ এ শোভাযাত্রার শামিল হন। তবে বৈশাখী শোভাযাত্রার আগে ও পরে সববয়সী মানুষের ঢল নামে পৌর উদ্যানে। সেখানে উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সববয়সের হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিত হন প্রাণের উৎসবে।

পহেলা বৈশাখে ঢাক ঢোলের তালে তালে, নানান রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ, মুকুট আর বর্ণিল সাজ পোশাকে পৌর উদ্যান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রাণের উচ্ছ্বাসে ভেসে সব বয়সের নারী পুরুষ ও শিশু উৎসব মুখর পরিবেশে মিলেমিশে একাকার হয়ে যান পৌর উদ্যানে। ‘নববর্ষের ঐকতান গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ এ প্রতিপাদ্য সার্বজনীন উৎসব প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হচ্ছে যশোরে।
সকাল সাড়ে আটটায় টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চের বটমূলে সমবেত জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রশাসন আয়োজিত পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠান বৈশাখী শোভাযাত্রা। এরপর এসো হে বৈশাখ এসো এসো.. গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রার সূচনা লগ্ন। শোভাযাত্রাটি টাউন হল মাঠ থেকে শুরু হয়ে জজ কোর্টের মোড়, দড়াটানা, চৌরাস্তা, জেলরোড, আদদ্বীন হসপিটাল, টিএন্ডটি অফিস রোড হয়ে আবারো রওশন আলী বটমূলের কাছে এসে শেষ হয়। এরপর শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন দাস।
এদিকে, শোভাযাত্রা শেষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠান চলছে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের প্রভাতী অনুষ্ঠান শুরু হয় পৌর পার্কে ৬টা ৩১ মিনিটে। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে হবে বৈকালিক অনুষ্ঠান। পৌর পার্কে বৈশাখী অনুষ্ঠান আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জমকাল অনুষ্ঠান চলছে উদীচীর উদ্যোগে।

নবকিশলয় স্কুলমাঠে সকালে শুরু হয় বিবর্তন ও সুরধুনীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুসলিম একাডেমি স্কুল প্রাঙ্গণে পুনশ্চের প্রভাতী অনুষ্ঠান শুরু হয় ৬টা ৩১ মিনিটে। বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে হবে বৈকালিক অনুষ্ঠান। টাউন হল মাঠের রওশন আলী বটমূলে বিকেল সাড়ে চারটায় হবে সুরবিতানের অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে চলছে নানান ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সবার দেশ/কেএম




























