যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মাদারীপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির অকাল মৃত্যুর খবরে শোকের স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার গ্রাম।
এ মর্মান্তিক সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের এটিএম বাজার এলাকায় বৃষ্টির বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সবার চোখেমুখে এখন প্রিয় মেধাবী মেয়েটিকে হারানোর বেদনা।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি স্থানীয় জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টির সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিলো। এরপর থেকেই তার কোনো খোজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। অবশেষে শনিবার সকালে তারা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর পান। জানা গেছে, একই ঘটনায় বৃষ্টির এক সহপাঠীর লাশ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির দেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বৃষ্টির পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি বরাবরই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির আসা-যাওয়া ছিলো নিয়মিত। মেধাবী এ শিক্ষার্থীকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিলো, যা এখন কেবলই স্মৃতি।
বৃষ্টির বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। তার চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, আপু খুব ভালো মানুষ ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার মৃত্যুর খবর শুনে আমরা স্তম্ভিত। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো, আমরা কিছুই জানি না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন ও আত্মীয় ফজিলা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, বৃষ্টি বেঁচে থাকলে দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারতেন। এখন তাদের একমাত্র দাবি হলো দ্রুত লাশ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এ ঘটনার পেছনে দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলাম। এখন অন্তত তার লাশটা যেনো ফিরে পাই। যুক্তরাষ্ট্রে ডুবুরি অভিযান চলছে বলে শুনেছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব এ বিষয়ে জানান, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসই প্রধান ভূমিকা পালন করে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের প্রশাসনিক সহায়তার আবেদন করা হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর এমন সংবাদ আসায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন কেবল বৃষ্টির লাশ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বজনরা।
সবার দেশ/কেএম




























