Sobar Desh | সবার দেশ যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:৫২, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, একজন টিটনের গল্প

জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, একজন টিটনের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

একসময় যশোরের মাঠ কাঁপানো জনপ্রিয় ফুটবলার। আক্রমণাত্মক খেলা আর দাপুটে উপস্থিতিতে যিনি ছিলেন দর্শকদের প্রিয় মুখ। সে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনই পরে হয়ে ওঠেন রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী। দীর্ঘ অপরাধজীবনের পর শেষ পর্যন্ত গুলিতেই থেমে গেলো তার জীবনের গল্প।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত হওয়ার পর বুধবার রাত ৮টার দিকে টিটনের লাশ যশোর শহরের খড়কি আপনমোড় এলাকায় তার বাড়িতে পৌঁছায়। লাশ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে রাতেই জানাজা শেষে শহরের কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন যশোর শহরের খড়কি আপনমোড় এলাকার বাসিন্দা এবং জুটমিল কর্মকর্তা কে এম ফকরউদ্দিনের ছেলে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ টিটন জামিনে মুক্ত থাকার সময় রাজধানীর হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই মুখোশধারী তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যশোরের ফুটবল অঙ্গনে পরিচিত নাম ছিলেন টিটন। যশোরের খ্যাতিমান কোচ ইমদাদুল হক সাচ্চুর অধীনে জেলা দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। আক্রমণাত্মক ফরোয়ার্ড হিসেবে চুয়াডাঙ্গা, খুলনা এমনকি ঢাকার বিভিন্ন দলেও খেলেছেন। মাঠে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়দের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সময় ১৯৯৮ সালে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে দলীয় কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন টিটন। কয়েক মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর সুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। ১৯৯৯ সালে যশোরের কারবালায় জোড়া খুনের ঘটনার পর তিনি ঢাকায় চলে যান এবং পরে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, টিটনের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিলো। ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। অস্ত্র ও সোনা চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকার ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় তার প্রভাব ছিলো বলেও জানা গেছে।

২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করেছিলো, সেখানে টিটনের নাম ছিলো দ্বিতীয় নম্বরে। ওই সময় তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে দেশজুড়ে পোস্টারও সাঁটানো হয়েছিলো।

স্থানীয়দের দাবি, ঢাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমনের ছত্রছায়ায় টিটন রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। পরে তিনি মোহাম্মদপুরভিত্তিক হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হন।

যশোরের সাবেক ফুটবলার ও রেফারি লাবু জোয়াদ্দার বলেন, টিটন ও তার বড় ভাই রিপন দুজনেই একসময় যশোরের সেরা ফুটবলার ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক হামলার পর থেকেই সে বদলে যেতে থাকে। প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব থেকেই সে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় যাওয়ার পর আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরেনি।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘ কারাভোগের পর গত বছরের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান টিটন। এরপর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের কাছে অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি সৎভাবে ব্যবসা করে নতুন জীবন শুরু করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বসিলা পশুরহাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই টিটন হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ। কয়েকদিন আগে টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন, তিনি হাটের ইজারার শিডিউল কিনেছেন এবং ব্যবসা শুরু করতে চান। পরে পিচ্চি হেলাল, বাদল, শাহজাহান ও রনির সঙ্গে বিরোধের কথাও পরিবারের সদস্যদের জানান তিনি। এমনকি বিরোধ মেটাতে একটি বৈঠকে ডাকার কথাও বলেছিলেন।

এর একদিন পরই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, টিটন হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে মো. মাসুম খান বলেন, টিটনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকতে পারে, তবে সব মামলার হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খাবারের টেবিল থেকে কলেজ শিক্ষককে তুলে হেনস্তা ছাত্রদলের
জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, একজন টিটনের গল্প
১০৩৫ কর্মী নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার
‘দুই মাসেই আওয়ামী কায়দায় দেশ শাসনের গন্ধ’
ট্রেনের নিচে পড়ে বেঁচে যাওয়া বাবা-ছেলের পরিচয় মিলেছে
দু’শ আসন পেয়ে মসনদের পথে মমতা?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে তোলার দাবি রুমিন ফারহানার
জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীতে চারজন গ্রেফতার
১৪ বোয়িং কিনছে সরকার, আজ চুক্তি
ঢাকা-১৭ এর ৫ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর ৬৫ কোটি টাকার অনুদান
মমতার দুর্গে মোদির ঝড়? হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, মারা গেছে অর্ধশতাধিক গরু
জকসু ক্রীড়া সম্পাদককে প্রকাশ্যে চড় মারলেন ছাত্রদল নেত্রী