Sobar Desh | সবার দেশ নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:১১, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ভাঙচুর-হুমকির অভিযোগে উত্তাল নোয়াখালী সরকারি কলেজ

খাবারের টেবিল থেকে কলেজ শিক্ষককে তুলে হেনস্তা ছাত্রদলের

খাবারের টেবিল থেকে কলেজ শিক্ষককে তুলে হেনস্তা ছাত্রদলের
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে কলেজ শিক্ষক পরিষদ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন জানায়, সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন অফিসিয়াল কাগজপত্র সংগ্রহ করতে সেদিন কলেজে আসেন। এ উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন।

এ সময় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষকদের খাবারের টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দেয়ার পাশাপাশি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তার শার্ট ধরে টানাহেঁচড়া করে এবং শার্টের সব বোতাম ছিঁড়ে ফেলে।

এ ছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন, আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে ফেলে দেবে।

ঘটনার পরপরই কলেজ শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদলের কাছে অভিযোগ দাখিল, থানায় মামলা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 

শিক্ষকতা জীবনে এমন অপমান আর কখনও হইনি। একজন সাবেক অধ্যক্ষ স্ত্রীকে নিয়ে শেষবারের মতো অফিসের কাগজ নিতে এসেছিলেন। আমরা খাবার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী এসে ভাঙচুর করে, খাবারের প্লেট থেকে আমাদের উঠিয়ে দেয়। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। প্রয়োজনে কৃষিকাজ করবো, তবু এভাবে শিক্ষকতা করতে চাই না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিল বলেন, তিনি বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছেন। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা। আমরা ছাত্ররাজনীতি করেছি, কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে এমন বেয়াদবি কখনও শিখিনি। যারা এ কাজ করেছে, তারা যে দলেরই হোক, কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চাওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

পারমাণবিক অস্ত্রই বিশ্বকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে: রাশিয়া
ডা. জাহেদের ঘটনায় দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলো ঢাকা
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ দোররার সাজা
বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর যৌথ ট্রফি প্রদান
ডিসি সারওয়ার আমাদের ‘চোখ খুলে দিয়েছেন’: মন্ত্রী আরিফুল হক
সীমান্ত রক্ষায় সীমান্তবাসীদের সামরিক ট্রেনিং দিতে হবে: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ডের পথে বাংলাদেশ
প্যারিসে ফের খুলছে মেরি ও লুই পাস্তুরের অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়াম
প্রেমের বিয়ে, সাবেক স্বামীর ম্যাসেজে প্রাণ গেলো তরুণীর
রিজার্ভে স্বস্তি, ছাড়ালো ৩৬ বিলিয়ন ডলার
১৭ বছর পর পেয়েছি কার্যকর জাতীয় সংসদ: স্পিকার
রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল
৫ আগস্টের পর আ.লীগের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে: নাহিদ ইসলাম