প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ মৃত্যুর মুখে
বাগাতিপাড়ায় অভিনব কৌশলে গাছ নিধন
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় অভিনব কৌশলে গাছ নিধনের ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে গাছ কাটতে না পেরে রাতের অন্ধকারে গাছের ছাল কেটে ও গর্ত করে ধীরে ধীরে সেগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে। এতে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক বড় গাছ শুকিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে লক্ষণহাটী, বাজিতপুর, রহিমানপুর, কালিকাপুর এবং কসবা এলাকার সড়কের পাশে থাকা বড় বড় গাছগুলোর গোড়া থেকে প্রায় তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছাল তুলে ফেলা হয়েছে। আবার কিছু গাছে রিং আকৃতিতে ছোট ছোট গর্ত করা হয়েছে। এর ফলে গাছগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, যাদের বাড়ির সামনে বা ফসলি জমির পাশে রাস্তার ধারে বড় গাছ রয়েছে, তাদের মধ্যেই কেউ কেউ গাছ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। কারণ গাছগুলো সরকারি জমিতে থাকায় প্রকাশ্যে কাটার সুযোগ নেই। তাই লোকচক্ষুর আড়ালে বা রাতের অন্ধকারে গাছগুলোর ছাল কেটে ধীরে ধীরে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক কড়ই গাছের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে অর্থমূল্যের বাইরেও এসব গাছ বহু বছর ধরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, ছায়া দেয় এবং পাখি ও বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এভাবে পরিকল্পিতভাবে গাছ ধ্বংস করা হলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রহিমানপুর এলাকার কয়েকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গাছগুলো মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এ কাজ করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে গাছগুলোর ছাল কেটে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি অনেকেই জানলেও কেউ প্রকাশ্যে বলতে চান না। তবে সঠিক তদন্ত হলে দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
জামনগর ইউনিয়নের স্থানীয় সদস্য মজিদ আলী বলেন, কিছুদিন ধরে তিনিও বিষয়টি লক্ষ্য করছেন। তার মতে, যারা এ কাজ করেছে তারা অত্যন্ত অন্যায় করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশন–এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সবুজ বাংলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন, রাস্তার পাশের বড় গাছগুলো শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং জীববৈচিত্র রক্ষা এবং জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিকল্পিতভাবে গাছের ছাল কেটে বা গর্ত করে ধীরে ধীরে মেরে ফেলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
উপজেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, সরকারি জমি বা রাস্তার পাশের গাছ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বলেন গাছ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গাছ নষ্ট করে থাকে, তবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























