১৭ দিন পর ধরা পড়লেন ওসমান মোল্লা
আমতলীতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার
বরগুনার আমতলী উপজেলায় নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসমান মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৭ দিন আত্মগোপনে থাকার পর বাড়িতে ফেরার সময় পরিবারের সদস্যদের হাতে আটক হয়ে তিনি পুলিশের কাছে সোপর্দ হন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটনাখালী গ্রামে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আমতলী থানায় স্বামী ওসমান মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের শানু মোল্লার ছেলে ওসমান মোল্লা (৪৫)। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। গত ২৫ এপ্রিল শনিবার স্ত্রী মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো। ওই দিন ভোর রাতে সে মেয়েকে ধর্ষনর জন্য তার জামা কাপর খোলার চেষ্টা করে। এসময় মেয়েটির ডাক চিৎকার শুনে মা এগিয়ে গেলে ওসমান মোল্লা তাকে মারধর ঘরে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার দীর্ঘ ১৭দিন আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল পৌনে ১২ টার সময় সে বাড়ী আসে। বাড়ী আসার পর পরিবারের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ওসমান মোল্লাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী ওসমান মোল্লাকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতা মেয়েটি কান্না জড়িত কন্ঠে জানায় তার বাবা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। ভয়ে এবং লজ্জায় এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারি নাই। আমি এঘটনা বিচার চাই।
ধর্ষিতার মা জানান, তার মেয়েকে তার বাবা এর আগে মারধরের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করেছে। কিন্তু মেয়েটি লজ্জায় এঘটনা কাউকে জানায়নি। বিলম্বে মামলার কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, মেয়েটির বিয়ে দেয়া লাগবে। এবং আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারবোনা। তাছাড়া ওকে আটকানোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজ বাড়িতে আসায় তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেই।
তিনি আরও বলেন, আমি এঘটনায় আমার স্বামীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, মেয়ে ধর্ষনের অভিযোগে বাবা ওসমান মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষিতা মেয়েটিকে বুধবার সকালে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সবার দেশ/কেএম




























