Sobar Desh | সবার দেশ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বেনাপোল সীমান্তে এবারও বসেনি দু’বাংলার একুশের মিলনমেলা

বেনাপোল সীমান্তে এবারও বসেনি দু’বাংলার একুশের মিলনমেলা
ছবি: সবার দেশ

ভাষা শহীদদের স্মরণে ভোরের প্রথম প্রহরে দেশের সর্বত্র যখন শহীদ মিনার পুষ্পার্ঘ্যে ভরে উঠেছিলো, কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিলো ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-তখন বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখা ছিলো নীরব, নির্জন।

এ বছরও ভারত-বাংলাদেশের বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে পালিত হয়নি। যৌথ আয়োজনের জটিলতা, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে বহু প্রতীক্ষিত সে দু’বাংলার একুশের মিলনমেলা বসেনি।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় সৃষ্টি হতো এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশ। প্রায় এক মাস পূর্ব থেকেই দু’পার সীমান্তের জনপ্রতিনিধি ও বাংলাভাষাপ্রেমী মানুষ যৌথভাবে দফায় দফায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা-সমাবেশ করতেন। দুই পারেই চলত রং-সাজসজ্জা, মঞ্চ প্রস্তুত, দুদেশের খ্যাতনামা নৃত্য ও সংগীতশিল্পী, বিভিন্ন কলাকুশলী, প্রখ্যাত কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের নিমন্ত্রণ ও সম্মাননা প্রদানের আয়োজন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি শেষে শূন্যরেখায় নির্মিত হতো অস্থায়ী শহীদ মিনার।

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর থেকেই দুই বাংলার হাজারো মানুষ রঙ-তুলিতে নকশা করা মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি-মিঠাই ও ফুলের ডালি সাজিয়ে ছুটে আসতেন শূন্যরেখায়। যেন বহু বছর পর আদরের ভাই বোনের বাড়িতে এসেছে-এমনই আবেগ ছড়িয়ে পড়তো চারপাশে। কিছু সময়ের জন্য সেখানে যে মায়া, মমতা ও ভালোবাসার আবহ তৈরি হতো, তা ছিলো সত্যিই অনন্য।

দেশভাগের আগে কিংবা পরে বিনিময় চুক্তিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুপারের নাড়ীপোতা মানুষ চিরচেনা মায়ের ভাষায় কথা বলতে, ফেলে আসা ভাই-বোন-আত্মীয়স্বজনদের একনজর দেখতে, একটু জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলতে-প্রতিবছর শুধু এ দিনটির অপেক্ষায় থাকতেন।

সীমান্তের কাঁটাতার যেনো সেদিন ভাষার টানে হার মানতো। এপার-ওপার বাংলার মানুষ দুই পারেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘুরতেন, আর দুই দেশের আয়োজকেরা একই মঞ্চে উঠে হৃদয়ের কথা বলতেন, গাইতেন সাম্যের গান। একসঙ্গে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতেন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। আবেগে অনেকেই ভুলে যেতেন রাষ্ট্রের সীমানা-মনে রাখতেন শুধু বাংলা ভাষার অমর স্মৃতি।

প্রথমদিকের একুশের আয়োজক সত্যজিত বাবু বলেন, যে জায়গাটিতে একসময় অস্থায়ী শহীদ মিনার গড়ে উঠতো, দুই বাংলার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতেন, সেখানে আজ নেই কোনও মঞ্চ, নেই কোনও মাইক, নেই আবেগে ভেসে আসা মানুষের ঢল। কাঁটাতারের ওপারে-এপারে দাঁড়িয়ে কেউ আর একসঙ্গে চোখ ভেজাননি। ভাষার টানে ভুলে যাওয়া সে সীমান্ত আজ যেনো আবার কঠিন বাস্তবতায় ফিরে এসেছে।

২০০২ সাল থেকে বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যে অনন্য মিলনমেলার সূচনা হয়েছিলো, তা কেবল আনুষ্ঠানিকতা ছিলো না-ছিলো দুই বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মীয়তার এক জীবন্ত প্রতীক। গেলো কয়েকবছর রাজনৈতিক জটিলতায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অনেকটা টানাপোড়েনে বন্ধ হয়ে যায় এ মিলনমেলা।

বেনাপোলের গণমাধ্যমকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিএম আশরাফ বলেন, ২১-শের সকালে সীমান্ত এলাকার অনেক বাসিন্দাই এসে কিছুক্ষণ শূন্যরেখার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ কেউ বলছিলেন, একসময় এখানে কী ভিড়ই না হতো!-স্মৃতির ভাঁজে ভেসে উঠছিলো একসঙ্গে গান গাওয়া, কবিতা পাঠ আর শহীদদের প্রতি নীরব শ্রদ্ধা নিবেদনের দৃশ্য।

একুশ মানে শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের চেতনা বিভাজনের দেয়াল মানে না-এ কথা বহুবার প্রমাণ করেছে সীমান্তের সে মিলনমেলা। তাই শূন্যরেখায় আজ কোনও আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও, ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেমে নেই। কাঁটাতার পেরিয়ে না হোক, হৃদয়ের ভেতরেই হয়তো এপার-ওপার বাংলার মানুষ একই আবেগে স্মরণ করেছেন শহীদদের।

শূন্যরেখা আজ নীরব। তবুও প্রত্যাশা রয়ে গেছে-আবার কোনো এক ফেব্রুয়ারির প্রভাতে সীমান্ত ভুলে ভাষার টানে মিলবে দুই বাংলার মানুষ। একুশের চেতনা আবারও জাগিয়ে তুলবে সে হারানো মিলনমেলা-এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করে বেনাপোল মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

গুম ঠেকাতে আইন, তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮
হাসনাতের বেলায় হুজুররা চেতেছে, বিএনপির বেলায় চুপ: মাদানী
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে রিট
মেসির ‘হালি’তে মন্ট্রিয়ল ধ্বংস, ৭-১ গোলে মায়ামির তাণ্ডব
বিলাওয়ালের বিয়ের গুঞ্জন, পাত্রী ইউরোপের!
নেপাল-চীনে বন্যায় মৃত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ, হদিস নেই আড়াই শ মানুষের
গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সংসদমুখী পদযাত্রায় ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান
মিরাজ নিখোঁজে ‘গুমের কাহিনী’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রংপুরে চার খুন হত্যায় সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই ডিবি হেফাজতে
আ.লীগ ফেরার বাতাস শুধু ভারত-সোশ্যাল মিডিয়ায়: সারজিস
ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে চলাচল বন্ধ রাঙামাটিতে
পাকিস্তানে তুর্কি সামরিক বিমানের আনাগোনা, উদ্বিগ্ন ভারত
২৪ ঘণ্টায় বন্যার শঙ্কায় দুই জেলা
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
গুমের প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত ও বিচার চান নাহিদ
কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ আসছে সেপ্টেম্বরে, থাকছে যেসব ফিচার