টাইব্রেকারে নাটকীয় জয়
আর্সেনালকে হারিয়ে টানা ইউরোপসেরা পিএসজি
রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে আবারও ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় ফরাসি ক্লাবটি। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতে নেয় পিএসজি।
শনিবার (৩০ মে) বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি শুরু থেকেই ছিলো উত্তেজনায় ভরপুর।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ছন্দে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই কাই হাভার্টজের গোলে লিড নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। শুরুর সে ধাক্কায় কিছুটা চাপে পড়ে যায় পিএসজি। প্রথমার্ধজুড়ে আক্রমণ ও বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি ফরাসি দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরে আসে পিএসজি। ৬২তম মিনিটে জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান উসমান দেম্বেলে।
এরপর দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়ে তোলে। ৭১তম মিনিটে দেম্বেলে আরেকটি সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে আর্সেনালের কাভারাস্কেইয়া একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে পড়লেও শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সের বাধায় সফল হতে পারেননি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। যোগ করা সময়েও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই জয়সূচক গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
অতিরিক্ত সময়েও দু’দলই আক্রমণ চালালেও ফলাফল পরিবর্তন হয়নি। এরপর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে প্রথমে এগিয়ে যায় পিএসজি। দুই দলের প্রথম দুই শটে সমতা থাকলেও তৃতীয় শটে এসে ব্যর্থ হয় আর্সেনাল। গোলকিপার দারুণ সেভ করে ম্যাচে পিএসজিকে এগিয়ে দেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে সফল শটে ব্যবধান বাড়ায় ফরাসি ক্লাবটি।
শেষদিকে চাপে পড়ে আর্সেনাল। শেষ শটে গোল করতে ব্যর্থ হন গ্যাব্রিয়েল, যার শট আকাশে উঠে যায়। এতে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।
এ জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব শিরোপা ধরে রাখল ফরাসি জায়ান্টরা। অন্যদিকে আর্সেনালের ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন আবারও ভেঙে গেলো নাটকীয়ভাবে।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণ, পেনাল্টি নাটক, গোলকিপারের সেভ এবং টাইব্রেকারের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এটি হয়ে থাকলো আধুনিক ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় ফাইনাল।
সবার দেশ/কেএম




























