Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ১০ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ২০:৪৪, ১০ জুলাই ২০২৫

রাজসাক্ষী কী, কারা হতে পারেন রাজসাক্ষী!

রাজসাক্ষী কী, কারা হতে পারেন রাজসাক্ষী!
ছবি: সংগৃহীত

গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি হঠাৎ নিজেই বললেন, আমি সত্য বলবো, সব কিছু ফাঁস করবো—আমার বাঁচার বিনিময়ে। তখনই শুরু হয় তার ‘রাজসাক্ষী’ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। সম্প্রতি জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ড মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজেই ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আমি ছিলাম, আমি জানি, আমি ফাঁস করবো।

এ বক্তব্যের পরই আলোচনায় আসে ‘রাজসাক্ষী’ বিষয়টি। কিন্তু আসলে কী এ রাজসাক্ষী? কেন রাষ্ট্র একজন অপরাধীকেই নিজের পক্ষের সাক্ষী বানায়?

রাজসাক্ষী মানে কী?

‘রাজসাক্ষী’ বলতে বোঝায় এমন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি যিনি নিজ অপরাধ স্বীকার করে অপরাপর সহ-অপরাধীদের বিরুদ্ধেও তথ্য প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হয়ে ওঠেন। এক সময় রাজা ছিলেন বাদী, তাই তখন বলা হতো ‘রাজ্যের সাক্ষী’ বা ‘রাজসাক্ষী’; বর্তমান যুগে একে বলা চলে ‘রাষ্ট্রের সাক্ষী’।

কারা হতে পারেন রাজসাক্ষী?

রাজসাক্ষী হওয়ার প্রধান শর্ত হলো:

  • তিনি নিজেও সংশ্লিষ্ট অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকবেন।
  • তিনি অপরাধের অন্তরালের সব সত্য ফাঁস করতে স্বেচ্ছায় রাজি হবেন।
  • তার সাক্ষ্য অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে বলে বিবেচিত হবে।

এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারক বা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে পারেন, অথবা রাষ্ট্র নিজে তাকে সাক্ষী করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

রাজসাক্ষীকে আইনি কাঠামো কীভাবে দেখছে?

  • সাক্ষ্য আইন, ধারা ১৩৩: রাজসাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা যাবে। যদিও তিনি নিজেও একজন দুষ্কর্মে সহচর, তা আইনগতভাবে বাধা নয়। তবে তার সাক্ষ্য একমাত্র ভিত্তি হয়ে উঠলে আদালত সতর্কতা অবলম্বন করেন।
  • সাক্ষ্য আইন, ধারা ১৪৪: রাজসাক্ষীর একক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে শাস্তি দেয়া সম্ভব হলেও তা খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচ্য। কারণ তিনি নিজেই বিশ্বাসঘাতকতা করে অপর আসামিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৭ ও ৩৩৮: একজন ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কাউকে নির্দিষ্ট শর্তে ক্ষমা করে রাজসাক্ষী করার প্রস্তাব দিতে পারেন। তবে শর্ত হলো—সে অপরাধে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করবে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও সত্য তথ্য দেবে।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

আদালত রাজসাক্ষীর বক্তব্যকে সরলভাবে গ্রহণ করে না। বিচারকের দায়িত্ব থাকে—

  • তার বক্তব্য সত্যনিষ্ঠ কি না তা যাচাই করা,
  • তিনি প্রভাবিত হয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখা,
  • এবং সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া।

রাজসাক্ষী জামিনে থাকলে তার সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল ধরা হয়। তাই অনেক সময় বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা হয়।

কেনো রাজসাক্ষীর দরকার হয়?

বিভিন্ন জটিল ও পরিকল্পিত অপরাধে অনেক সময় প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। মূল অপরাধীরা আদালতে চুপ থাকেন বা তথ্য গোপন করেন। তখন কারও একজন ভেতরের লোকের মুখ খুলে যাওয়া—বাকি সব রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

রাজসাক্ষী তাই বিচারপ্রক্রিয়ার একটি কৌশলগত অংশ। এটি একদিকে অপরাধ উদঘাটনে সহায়তা করে, অন্যদিকে অপরাধীকে স্বীকারোক্তির বিনিময়ে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির পথও দেখায়।

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজসাক্ষী হওয়ার ঘোষণার পর, এখন অপেক্ষা—তার দেয়া তথ্য কতোটা সত্য, সুনির্দিষ্ট এবং বিচারযোগ্য প্রমাণে রূপ নেয়। রাষ্ট্রের পক্ষেও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন