শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামি; রাজধানীতে চরম সতর্কতা
১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আনা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে, নিরাপত্তা জোরদার
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলের নামে সংঘটিত গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে।
সকালে তাদের হাজিরের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় সকাল ৬টায় তাদের আনা সম্ভব হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি শুরু করবেন।

এ দুই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনার নাম রয়েছে উভয় অভিযোগপত্রেই। প্রথম মামলায় ১৭ জন, দ্বিতীয়টিতে ১৩ জন আসামি হলেও, দুই ক্ষেত্রেই শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৩ কর্মকর্তার ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে আছেন এবং তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হাইকোর্টের মাজারগেট, মৎস্য ভবন, কাকরাইল ও ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের যৌথ টহল। আদালতের আশপাশে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট, সীমিত করা হয়েছে প্রবেশাধিকার।

সূত্র জানায়, টিএফআই-জেআইসি সেলের নামে গত এক দশকে সংঘটিত গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাগুলো গঠন করা হয়েছে। এসব অপরাধ মানবতাবিরোধী হিসেবে স্বীকৃত কি না, তা নিয়ে আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রবেশেও রাখা হয়েছে বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা। সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ভবনে টেলিভিশন চ্যানেল, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিচারিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ মামলার শুনানি বাংলাদেশের সামরিক, বিচারিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























