মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যের কারণে মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বছরখানেক ধরে তিনি কথাবার্তা বলতেও সক্ষম ছিলেন না। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেয়া হয়।
রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমানকে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়।
মাহবুবা রহমানের মেয়ে, সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম, গণমাধ্যমকে জানান, তার জানাজা অনুষ্ঠানের পর লাশ শেষবারের মতো বাসায় আনা হয় এবং আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের জন্য একনজর দেখেন। এরপর লাশ নেয়া হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে, যেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
একুশে পদকপ্রাপ্ত এ গায়ক ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি গেয়ে আলোচনায় আসেন। পরে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ সিনেমায় ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’ গান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
মাহবুবা রহমানের আরও জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’
- ‘আমার না বলা কথা’
- ‘সোনালি এই ধানের খেতে’
- ‘আগে জানি না রে দয়াল’
- ‘তুমি দাও দেখা দরদি’
- ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’
- ‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’
- ‘আমার মন ভালো না গো, প্রাণ ভালো না গো’
তিনি প্লেব্যাক করেছেন ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সাত ভাই চম্পা’সহ ঢাকার প্রথম দিকের অনেক চলচ্চিত্রে।
মাহবুবা রহমানের প্রয়াণে দেশের সংগীত জগতে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, এবং তার কণ্ঠের সুর দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ীভাবে বেঁচে থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























