বিরোধী দল আমাকে ফজা পাগলা বলে—সংসদে ফজলুর
জাতীয় সংসদে নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘ফজা পাগলা’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করলে তা ‘ডাবল অপরাধ’।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে জাতীয় সংসদে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের নেতাকে সবসময় আমি মাননীয় বলে কথা বলি। কিন্তু ওনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ফজা পাগলা বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য, তারা নাকি ইসলাম?
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানতে চান, সংসদে কেউ এ ধরনের মন্তব্য করেছেন কি না। জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, করেছে, করেছে, আছে এখানে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।
এ মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। সংসদ কক্ষে হইচই শুরু হলে স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, উনাকে বলতে দেন। সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, আল-বদর, থানা লুট, পুলিশ হত্যা এবং অস্ত্র লুটের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে ‘বিপ্লব’ বলা ঠিক হবে না।
তার ভাষায়, আগস্ট কোনx বিপ্লব নয়, আগস্ট হলো গণঅভ্যুত্থান। সে গণঅভ্যুত্থানকে যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করতে চায়, সেটা অন্যায়।
‘
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনাকে তিনি ‘প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়া’র তুলনা এবং ‘হিমালয়ের সঙ্গে টিলা’র তুলনা বলেও মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পাল বংশ, সেন শাসন, পলাশীর যুদ্ধ, সন্ন্যাসী বিদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেখ মুজিবুর রহমান-এর নাম উল্লেখ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডারদের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যে ভারতের সহযোগিতা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোর বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ভারত ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো এবং তাদের হাজার হাজার সৈন্য এই মাটিতে রক্ত দিয়ে গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, একটা গান হতে পারে নাই, একটা নাটক হতে পারে নাই, একটা লালনের গীতি হতে পারে নাই, একটা বাউল গান হতে পারে নাই।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, জামায়াত জোট যদি মেজরিটি পায়, তাহলে আমি বিষ খাবো। তারা কোনওদিন রাজনৈতিক যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারবে না।
তিনি দাবি করেন, যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে। রাজাকার কোনওদিন এ দেশে জয় লাভ করতে পারবে না।
বিরোধী দলের সদস্যরা বারবার প্রতিবাদ জানালে স্পিকার সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।
পরে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা চলাকালে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে নতুন করে বিভক্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বুঝতে পারে—জাতির প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।
সবার দেশ/কেএম




























