Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

এনবিআর-আত্মা প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত

তামাক করে মিলবে টাকা, অকাল মৃত্যু পড়বে ঢাকা

তামাক করে মিলবে টাকা, অকাল মৃত্যু পড়বে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

সিগারেট ও অন্যান্য তামাকপণ্যের করকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার আনা হলে সরকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা’র পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় আত্মা জানায়, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরের সিগারেট ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়া হয়।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর ও মূল্য বৃদ্ধি করলে সিগারেটের ব্যবহার কমে—এটি এনবিআরের কাছে প্রমাণিত। ফলে আগামী বাজেটেও তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলা হয়, কার্যকর মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় দেশে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য কমে যাচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সিগারেটের দামের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে।

আত্মা আরও জানায়, তামাকপণ্যের মূল্য কার্যকরভাবে বাড়াতে বিশ্বের ৬৯টি দেশ ইতোমধ্যে অ্যাডভেলরেম পদ্ধতির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু করেছে। ভারত, থাইল্যান্ড ও তুরস্কের মতো দেশগুলোতে এ পদ্ধতি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করলে তামাকপণ্যের সর্বনিম্ন মূল্য বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় এবং কর আদায় ব্যবস্থাও সহজ হয়।

সংগঠনটি বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর বাড়ানোরও দাবি জানায়। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ শলাকার ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। এছাড়া জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রামে ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সব ধরনের তামাকপণ্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

আলোচনায় তুলে ধরা তথ্যে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনও না কোনওভাবে তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে আদায়কৃত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা’র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন দৈনিক জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

বিরোধী দল আমাকে ফজা পাগলা বলে—সংসদে ফজলুর
আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা গুরুতর অপরাধ: ফজলুরকে জামায়াত আমির
বৃষ্টিতে ডুবলো চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী
হঠাৎ অসুস্থ সারজিস আলম, হাসপাতালে ভর্তি
‘জঙ্গি নেই’ বনাম ‘জঙ্গি আছে’: সরকারের ভেতরেই দ্বিমত
হামে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১,২৭৬
রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, আগস্টেই গ্রিডে আসবে বিদ্যুৎ
মাদরাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা ঢাকতে বজ্রপাতের গুজব
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে যাচ্ছে মন্টেনিগ্রো
পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল
১১০ কেজি গাঁজাসহ ২২ বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেফতার
প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক
গুলশানে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেলছে ইরান
আদানির বন্ধ ইউনিট চালু, পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ
ফরিদপুরে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মা-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা
হরতালের সুযোগ দেবো না, জামায়াতকে হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মিডিয়াকে সরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
সংসদে সরব এনসিপি, জামায়াত কিছুটা দুর্বল: রুমিন ফারহানা
বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমাচ্ছে ইরানের ‘গোপন রফতানি’