Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১১, ৪ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের জন্য অশনি সংকেত!

বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটদের মারতে আসলো কুয়েতিরা

বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটদের মারতে আসলো কুয়েতিরা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের বিব্রতকর ঘটনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তৃতীয় দিনে কুয়েতের আকাশসীমায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুল শনাক্তকরণে মার্কিন বিমানবাহিনীর তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

ঘটনাটি ঘটে ২ মার্চ। জানানো হয়, ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো কুয়েতের আকাশে অবস্থান করছিলো। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতি রাডার সিস্টেম সেগুলোকে শত্রুপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে তিনটি বিমানই বিধ্বস্ত হয়।

বিমানগুলোতে থাকা তিন পাইলট ও তিনজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে অবতরণ করেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং তারা স্থিতিশীল আছেন বলে জানানো হয়েছে।

এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল হলো মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক, দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম এবং প্রায় ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় অভিযান পরিচালনা করতে পারে। উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ও এএন/এপিজি-৭০ রাডার থাকার পরও এই দুর্ঘটনা ঠেকানো যায়নি।

ঘটনার পর কুয়েত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভুলের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে একসঙ্গে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের ফলে ‘ফগ অব ওয়ার’ বা যুদ্ধের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে বন্ধু ও শত্রু শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনা মিত্রদেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সংকটের বিষয়টি সামনে এনেছে।

এদিকে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের কাছে নামার পর মার্কিন পাইলটদের ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছু কুয়েতি নাগরিক প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখান এবং বিধ্বস্ত বিমানের মার্কিন পাইলটদের মারতে তেড়ে আসেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য দায়ী করেন। এ দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন হস্তক্ষেপের নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগের দাবি—ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে—নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাস্তবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় আকাশযুদ্ধে চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন জে. উইকার্ট মন্তব্য করেছেন, এ ঘটনা মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বের দাবিতে বড় ধাক্কা। বছরের পর বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে উন্নত সেন্সর ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা তৈরি করা হলেও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে তা সবসময় নির্ভুল সুরক্ষা দিতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে নিজেদের বিমান হারানো এবং স্থানীয় জনরোষের মুখে পড়া পেন্টাগনের জন্য কৌশলগত ও কূটনৈতিক—দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চলমান সংঘাত যে দীর্ঘ ও জটিল আকার নিচ্ছে, এ ঘটনাকে তারই সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

খবরটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষণধর্মী সাময়িকী নাইনটিন ফোরটি ফাইভ।

সবার দেশ/এফও 

শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়
কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪
আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ