Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১১, ২৯ মার্চ ২০২৬

রেশনিং করে ঠেকাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র

ফুরিয়ে আসছে প্রতিরক্ষা মজুত, ত্রির্মুখী হামলায় নাজেহাল ইসরায়েল

ফুরিয়ে আসছে প্রতিরক্ষা মজুত, ত্রির্মুখী হামলায় নাজেহাল ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এক মাস পার হতেই নতুন ধরনের সামরিক সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। একদিকে ইরান, অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন—তিন দিক থেকে হামলার মুখে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়ে গেছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে এখন রেশনিং পদ্ধতি অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছে তারা।

আল জাজিরা-এর প্রতিবেদক নূর ওদেহ পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নেতৃত্ব যুদ্ধের পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, ইসরায়েল কৌশলগতভাবে এগিয়ে আছে। তবে বিরোধীরা বলছে, এ যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের নেই।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল একযোগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হিজবুল্লাহর রকেট আক্রমণ এবং এখন হুথিদের নতুন ফ্রন্টের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে বহুগুণ।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ক্রমাগত হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। উন্নত ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ফলে দীর্ঘমেয়াদে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এখন কৌশল বদলেছে। সামরিক বাহিনী বেছে বেছে শুধুমাত্র সে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করছে, যেগুলো জনবহুল এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রাখে। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র জনশূন্য এলাকায় পড়তে পারে, সেগুলো আর প্রতিহত করা হচ্ছে না—এভাবে ইন্টারসেপ্টর সাশ্রয়ের চেষ্টা চলছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে তেল আবিব। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তাদের ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন এবং অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, একই সময়ে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতও চাপে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে দেখা যাচ্ছে—ইরানের কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত চাপ এবং মিসাইল ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়াতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করলেও কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সংকটে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট পুনর্বহাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম-ঢাকার নেতৃত্বে মোবারক-সবুজ
জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সাত জেলা প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ
জন্মশহরে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
বিএনপি জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে
স্থানীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট
বালু উত্তোলন ঘিরে সুনামগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
চীনে ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কলিনা
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত
নতুন করে কাউকে ‘শেখ হাসিনা’ হতে দেয়া হবে না: সারজিস
কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড, ইতিহাসে আর্জেন্টিনার দাপট