মার্কিন ঘাঁটির মতোই ছাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ: আইআরজিসি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের কোনো চেষ্টা চালানো হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোরও ভয়াবহ পরিণতি হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি বলেছে, আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজগুলোর ভাগ্যও সেখান থেকে ভিন্ন হবে না।
এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি, যিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার। তিনি সরাসরি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বল্পমেয়াদী ও তীব্র’ সামরিক হামলার যে পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার জবাব হবে দীর্ঘমেয়াদী ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বার্তায় জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যে দশা হয়েছে, রণতরীগুলোর জন্যও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারর কাছ থেকে ইরানবিষয়ক নতুন সামরিক পরিকল্পনার ব্রিফিং গ্রহণ করবেন। অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে কিংবা যুদ্ধ পরিস্থিতির ‘চূড়ান্ত সমাপ্তি’ টানার অজুহাতে ওয়াশিংটন বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিষয় বিবেচনা করছে। কথিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা, হরমুজ প্রণালীর একাংশ নিয়ন্ত্রণে নেয়া এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরাসরি বোমাবর্ষণের তুলনায় নৌ-অবরোধ ইরানের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর জবাবে জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি বলেন, শত্রুপক্ষের অপারেশন যত সংক্ষিপ্তই হোক না কেনো, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে সুদূরপ্রসারী ও কঠোর। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে চলমান কৌশলগত উত্তেজনা এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
সবার দেশ/কেএম




























