শুভেন্দুর ঘোষণা
‘হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব, মুসলিমদের ঘাড়ধাক্কা’
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদের ‘ঘাড়ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে নিজের সরকারের অগ্রাধিকার ও ‘টু-ডু লিস্ট’ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবো আর মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দেবো।
ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রথম লক্ষ্য হিসেবে দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন।
সীমান্ত সুরক্ষার পর নাগরিকত্ব ইস্যুকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে তাদের ভারত থেকে বের করে দেয়ার কথা জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থাকার পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, তারা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকতো না।
সংবিধান মেনে কেন্দ্রের সঙ্গে কাজ
সরকারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি দাবি করেন, দুই বছর পর রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) চালু হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করাকেও সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, আগের সরকার জমি দিতে পারেনি।
চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডরকে সুরক্ষিত রাখার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সাতটি রাস্তার জন্য জমি চাওয়া হয়েছিলো। তার সরকার কেন্দ্রকে ওই সাতটি রাস্তার জন্যই জমি দিয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রের বিভিন্ন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টে জমি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু নির্মাণের জন্য জমি আটকে রাখা হয়েছিলো। সে জমিও কেন্দ্রের প্রকল্পের জন্য দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের চতুর্থ দায়িত্ব হিসেবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা জানান তিনি।
নিয়োগ দুর্নীতি তদন্ত ও শ্বেতপত্র
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ দুর্নীতির বাইরে রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একইভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের পঞ্চম অগ্রাধিকার হিসেবে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তার দাবি, এর মাধ্যমে রাজ্যের যুবকদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ষষ্ঠ অগ্রাধিকার হিসেবে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলের দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের কথা জানান তিনি। এ জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিজেপি নেতা।
তিনি বলেন, ভোট ঘোষণার ছয় মাস আগে পর্যন্ত এবং সর্বশেষ তিন মাসে পূর্ববর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে রাজ্যের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।
ক্ষমতায় আসার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই এ ছয় দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এটিকে তার সরকারের ‘সিক্সার’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরেন।
সবার দেশ/কেএম




























