বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানির অভিযোগ
নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেফতার
নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি-কে গত বছরের গণবিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তাকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে এখনও তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা রূপ নেয় সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। সে সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিক্ষোভকারী। দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভও এ আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে।
এ সহিংসতা তদন্তে গঠিত একটি কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখককে ‘ফৌজদারি অবহেলা’র জন্য দায়ী করে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করে। সে সুপারিশের ভিত্তিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংকেও গ্রেপ্তারের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এর আগে কমিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওলি এক সাক্ষাৎকারে এটিকে তার বিরুদ্ধে ‘চরিত্রহনন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছিলেন।
এ গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন শাহ শপথ নিয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই এ উচ্চপর্যায়ের পদক্ষেপ দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, যিনি নিজেও ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, ওলির গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সূচনা।
এদিকে, সম্ভাব্য অস্থিরতা ঠেকাতে কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার এ পদক্ষেপের মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বার্তা দিতে চাইছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ওই সহিংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরেও আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে কঠোর শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছিলো, যার ফলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এখন এ বহুল আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, তা নিয়েই নজর রাখছে নেপালের সাধারণ মানুষসহ আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: বিবিসি
সবার দেশ/কেএম




























