Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:২৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মোড়

নেতানিয়াহু হেরে গেছেন! কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী?

বুথফেরত সমীক্ষায় এগিয়ে বিরোধীরা, তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কোনও পক্ষেরই; সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আরব দলগুলোর সমর্থন।

নেতানিয়াহু হেরে গেছেন! কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী?
ফাইল ছবি

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বুথফেরত সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর তাকে পরাজিত ঘোষণা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তবে প্রাথমিক সমীক্ষায় কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত সমীক্ষায় আসনসংখ্যার হিসাবে কিছু পার্থক্য থাকলেও কোনও পক্ষেরই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

নেতানিয়াহুর পরাজয় ঘোষণা বেনেটের

নির্বাচনের প্রাথমিক সমীক্ষার ফল প্রকাশের পর তেল আবিবে নিজ দলের সদর দফতরে উপস্থিত হয়ে নেতানিয়াহুর পরাজয় ঘোষণা করেন বেয়াহাদ পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেট। তার দাবি, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা আগের ৬৮ থেকে কমে প্রায় ৫০-এ নেমে এসেছে।

সমর্থকদের উদ্দেশে বেনেট বলেন, ইসরায়েলের জনগণ জেগে উঠেছে এবং নিজেদের মতামত জানিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু হেরে গেছেন এবং ৭ অক্টোবরের সরকারকে বিদায় নিতে হবে।

তিনি চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। বেনেট বলেন, গণনা শেষ হওয়ার আগে অনেক কিছু পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবর্তনপন্থী জোটের নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় করছেন বলেও জানান তিনি।

আইজেনকোটের জোটের অবস্থান

নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ গ্যাডি আইজেনকোট। সাবেক এ সেনাপ্রধানের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি এবং তার মিত্র দলগুলো বুথফেরত সমীক্ষায় উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়ার আভাস দিয়েছে।

বিভিন্ন ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী শিবির প্রায় ৫১ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার ডানপন্থী ও অর্থোডক্স মিত্রদের আসনসংখ্যাও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

তবে বিভিন্ন চ্যানেলের সমীক্ষায় ফল এক নয়। কান ও চ্যানেল ১৩-এর পরবর্তী পূর্বাভাসে দুই পক্ষের আসনসংখ্যা ৫১-এ সমান দেখানো হয়। চ্যানেল ১২-এর হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি এবং আইজেনকোটের শিবির ৪৯টি আসন পেতে পারে।

এ পার্থক্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বেনেট-লাপিদের রাজনৈতিক সমন্বয়

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদও নেতানিয়াহুর জোটের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন। তার দাবি, নেতানিয়াহুর শিবির বড় ধরনের নির্বাচনী ধাক্কার মুখে পড়েছে।

বেনেট ও লাপিদের রাজনৈতিক সম্পর্ক ইসরায়েলের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতেও তারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে রাজনৈতিক সমঝোতা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তাদের অবস্থানও বদলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বেনেট ও লাপিদ বেয়াহাদ পার্টি গঠন করেন। এর আগে লাপিদ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছেন। বেনেটও রাজনৈতিক বিরতির পর আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।

বর্তমান নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক সমন্বয় নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা দিয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত হবে না; সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা

এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছে। বুথফেরত সমীক্ষায় দুটি আরব দল মিলিয়ে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলেও এ ধরনের অবস্থান বজায় থাকলে সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কোনও জোট এ সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন, রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা জোটের কাঠামো পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আরব দলগুলোর অন্যতম নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, পরিবর্তনপন্থী শিবিরের সঙ্গে সমন্বয় করে ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে যৌথ তালিকার চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা-ই হোক, আরব প্রতিনিধিদের উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেই বিরোধী জোট সরকার গঠন করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অবস্থান, পারস্পরিক সমঝোতা এবং সংসদীয় সমর্থনের চূড়ান্ত হিসাবের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে।

নেতানিয়াহুর পাল্টা দাবি

বিরোধী শিবিরের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই বুধবার ভোরে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, তার ডানপন্থী জোটের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং একটি শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদর দফতরে অবশ্য প্রাথমিক ফল নিয়ে তেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় দলের এক সমর্থক বলেন, সবকিছু শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডোন সার বিরোধীদের উদযাপনকে অকাল বলে মন্তব্য করেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও তার সমর্থকদের প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ভোটারদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করেছিলেন, তারা ভোট না দিলে বামপন্থী ও আরব দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট সরকার গঠিত হতে পারে। তার এ বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ভোটার উপস্থিতিতে রেকর্ড

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে ঘিরে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। একদল ভোটার নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও তার সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে তার সমর্থকেরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকেই উপযুক্ত মনে করেন।

ভোটের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ডানপন্থী দলগুলোর আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি। কমিটির মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোটের সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা ছিলো না।

কখন জানা যাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে?

প্রাথমিক সমীক্ষা প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনাবাসিক ভোটারদের এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের প্রায় ছয় লাখ ভোট বৃহস্পতিবারের আগে পুরোপুরি গণনা করা সম্ভব হবে না।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সংসদে সমর্থন নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট নেতা ও দলগুলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য আলোচনা করতে হবে।

তাই বুথফেরত সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোট পিছিয়ে থাকলেও তাকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত বলা যাবে না। একইভাবে আইজেনকোট, বেনেট কিংবা লাপিদের কাউকেই এখনই নিশ্চিত নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ নেই।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের জন্য ৬১ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করার সক্ষমতা। নির্বাচনের ফল যদি কোনও পক্ষকে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না দেয়, তাহলে পরবর্তী রাজনৈতিক দর-কষাকষিই নির্ধারণ করবে—নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন, নাকি ইসরায়েলে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হবে।

সূত্র: বিবিসি ও ওয়াইনেট নিউজ।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

সিনেমায় এখনই ‘না’ নাজনীন নীহার
ভারতের উপকূল পেরিয়েছে অর্ণব, বাংলাদেশে ৩ নম্বর সংকেত
বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর অন্তর্বাসে ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট
আরবদের বাদ দিয়ে সরকার গঠনের দাবি ইসরায়েলি নেত্রীর
বাংলাদেশ-জাপান ছয় চুক্তি, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ
স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪
মিরপুরে উচ্ছেদের পরই ফের দখল, সন্ধ্যায় অভিযান
কানাডার অভিবাসন আইনে পরিবর্তন, উদ্বেগে আবেদনকারীরা
মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণের প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হত্যার হুমকি
দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি চক্রের সিন্ডিকেট
নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব জোটের দিকে বিরোধীরা
স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৪৬
ইসরায়েলের ক্ষমতার চাবিকাঠি কি আরব দলগুলোর হাতে?
যৌবন ধরে রাখতে ‘রেড লাইট’ থেরাপি সানিয়া মির্জার
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ভারত
ছাত্রদল নেতা খুন: ওসি প্রত্যাহার, তদন্তে ডিবি
হেমন্তের স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মিলনমেলা
নেতানিয়াহু হেরে গেছেন! কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী?