স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার বিলে ফ্রান্সের অনুমোদন
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে বহু প্রতীক্ষিত এবং বিতর্কিত একটি বিল পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিলটি ৩০৫ বনাম ১৯৯ ভোটে পাস হয়, যেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পূর্ণ সমর্থন ছিলো।
বিলটি অনুযায়ী, মারাত্মক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত এবং অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্ক ফরাসি নাগরিকরা চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান করতে পারবেন। যদি কেউ নিজের হাতে প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণে অক্ষম হন, তাহলে চিকিৎসক বা নার্সের সহায়তায় সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
তবে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর শর্তসাপেক্ষ
- রোগীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে
- ফরাসি নাগরিক হতে হবে অথবা দীর্ঘদিন ফ্রান্সে বসবাস করতে হবে
- নির্ভরযোগ্য চিকিৎসক দলকে রোগটিকে “অসুস্থতার শেষপর্যায়ের দুরারোগ্য অবস্থা” হিসেবে শনাক্ত করতে হবে
- মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই আইনের আওতায় পড়বেন না
এ বিলকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ‘মানবিক মর্যাদার প্রতীক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি যন্ত্রণার অবসান এবং মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর সুযোগ দিতে একটি ‘সাহসী ও মানবিক পদক্ষেপ’।
তবে রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল, কিছু চিকিৎসক এবং ধর্মীয় সংগঠন এ বিলের বিরোধিতা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ আইন পাসের মাধ্যমে ফ্রান্স ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও স্পেনের পথেই হাঁটলো, যারা আগে থেকেই আইনগতভাবে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন দিয়েছে।
যদিও জাতীয় পরিষদে বিলটি পাস হয়েছে, এখনও চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হতে হলে সিনেটের অনুমোদন এবং আরো কয়েক ধাপ পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তবে জনমত এর পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশেরও বেশি ফরাসি নাগরিক এ আইনকে সমর্থন করেছেন।
বহু বছরের বিতর্ক আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষে, ফ্রান্স মৃত্যুর অধিকারের প্রশ্নে এক নতুন নীতিগত অধ্যায়ের সূচনা করলো।
সবার দেশ/কেএম




























