Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২৪, ৭ জুলাই ২০২৫

ইরানে আফগানদের গণবহিষ্কার নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

ইরানে আফগানদের গণবহিষ্কার নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে অবস্থানরত লাখ লাখ আফগান নাগরিককে দেশ ছাড়ার সময়সীমা শনিবার (৬ জুলাই) শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে ইরান সরকার। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও অন্যান্য মানবিক সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম স্থাপনায় হামলার পর সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।

২০২৩ সাল থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ইরান সরকার। চলতি বছরের মার্চে ঘোষণা দেওয়া হয়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত আফগানদের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করতে হবে, নইলে তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ আফগান ইরান ছেড়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত জুন মাসেই ২ লাখ ৩০ হাজার আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিক বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও অন্যান্য মানবিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এত বড় আকারে লোকজনকে হঠাৎ করে ফেরত পাঠালে আফগানিস্তানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার আফগান ইরান থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার। যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অর্ধেকেরও বেশি জোরপূর্বক বহিষ্কৃত হয়েছেন, স্বেচ্ছায় যাননি।

তেহরানে বসবাসকারী আফগান রেস্তোরাঁ মালিক বাতুল আকবারি বলেন, আমরা এ দেশেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। এটাই আমাদের ঘর। অথচ আমাদের এমন এক দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেটি আমরা ভালোভাবে চিনিও না।

একই রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আফগান শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাসিম মাজাহেরি। তিনি বলেন, এ বহিষ্কার আমাদের পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, আমরা সবসময় অতিথিপরায়ণ ছিলাম। তবে জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। যেসব মানুষ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানে আফগানদের বিরুদ্ধে জনমনে বিরূপ মনোভাব বাড়ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের ঘাটতির জন্য অনেকেই আফগান অভিবাসীদের দায়ী করছেন। এছাড়া ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পর কিছু আফগানকে গুপ্তচরের সন্দেহেও দেখা হচ্ছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান সরকার যত কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপই নিক না কেন, এই গণবহিষ্কারের ফলে আফগানিস্তানে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে। যেসব আফগান পরিবার ইরানেই জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, শিক্ষা নিয়েছেন— তাদের অনেকেই এখন পরিচয়হীন অবস্থায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

সবার দেশ/এফএস 
 

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮