দুর্নীতির অভিযোগে পুতুলকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠালো ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়েছে বলে এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে সংস্থার মহাপরিচালক টেডরস আধানম গেব্রিয়েসুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্নীতি ও ভুয়া তথ্যের অভিযোগ
২০২৪ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনারারি পদে থাকার যে দাবি তিনি করেছিলেন, তা প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি তার পরিচালিত ‘শুচনা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩০ কোটি টাকা অনিয়মিতভাবে গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগগুলো বাংলাদেশের ফৌজদারি দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় পড়ে। মামলা দায়েরের পর থেকেই তার কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিতর্কিত নিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে WHO’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে তার এ নিয়োগ শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিলো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ পদে বসেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি বলেও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে।
মামলার পর থেকে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য দেশগুলো সফর করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় আন্তর্জাতিক চলাচলেও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
ডব্লিউএইচওর দায়িত্বে পরিবর্তন
সায়মা পুতুলের অনুপস্থিতিতে WHO’র সহকারী মহাপরিচালক ডা. ক্যাথারিনা বোহমে অস্থায়ীভাবে আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। ১৫ জুলাই তিনি নয়াদিল্লিতে সিয়ারো (SEARO) দফতরে যোগ দেবেন।
WHO’র অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, চলমান তদন্ত ও পুতুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা বজায় রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছিলো।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
‘হেলথ পলিসি ওয়াচ’-এর বরাতে জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভ্যন্তরে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রে পুতুলের নিয়োগ ও পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ ছিলো বহুদিন ধরেই। এবার দুর্নীতি মামলার কারণে সে সমালোচনাগুলো বাস্তব ভিত্তি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনাটি শুধু WHO নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রভাব-প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সায়মা পুতুলের ভবিষ্যত নিয়তি নির্ভর করবে দুর্নীতি মামলার বিচারিক অগ্রগতি এবং WHO’র অভ্যন্তরীণ তদন্তের ওপর।
তথ্যসূত্র : হেলথ পলিসি ওয়াচ
সবার দেশ/কেএম




























