Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফ্রান্সে, পুলিশের সঙ্গে রণক্ষেত্র

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফ্রান্সে, পুলিশের সঙ্গে রণক্ষেত্র
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে নতুন করে আগুন জ্বলেছে রাস্তায়। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাজারো তরুণ নেমে আসে ‘ব্লোকঁ তু’ (সবকিছু অচল করো) কর্মসূচিতে।

শুরুতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলেও দ্রুত তা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সড়কে প্রতিবন্ধকতা, টায়ারে আগুন, ট্রেন চলাচলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অচল অবস্থা—সব মিলিয়ে ফরাসি নগরজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে রাস্তাজুড়ে ধোঁয়া, ভাঙচুর আর আতঙ্কের দৃশ্য তৈরি হয়।

লো মঁদ ও রয়টার্সের খবরে জানা যায়, বিক্ষোভ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ২০০–৩০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এ আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর। সোমবার আস্থা ভোটে হেরে পদত্যাগ করেন ফ্রঁসোয়া বায়রু। পরদিন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ নিজের ঘনিষ্ঠজন সেবাস্টিয়ান লোকনুকে প্রধানমন্ত্রী করেন।
কিন্তু বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন ডাকা উচিত ছিলো। অথবা অন্তত বামপন্থী ধারার কারও হাতে নেতৃত্ব দেয়া দরকার ছিলো। অথচ মাখোঁ ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে নিজের ঘনিষ্ঠজনকে বসিয়ে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করেছেন।

সরকারের অভিযোগ বনাম জনগণের ক্ষোভ

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীরা পরিকল্পিতভাবে ‘বিদ্রোহী পরিস্থিতি’ তৈরি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত এ আন্দোলনের পেছনে বামঘেঁষা রাজনীতিকদেরও ভূমিকা রয়েছে।

কিন্তু ফরাসি দৈনিক লো মঁদ জানাচ্ছে, এ বিক্ষোভের কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। বরং এটি সরকারের বাজেট ও ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া এক স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন।

ফ্রান্সে সরকারের জন্য এটি এক ভয়াবহ রাজনৈতিক পরীক্ষা, আর জনগণের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার মুহূর্ত।

সবার দেশে/কেএম

সর্বশেষ