বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স, ৪ শতাধিক গ্রেফতার
ফ্রান্সজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বুধবার রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দুই লাখেরও বেশি মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তারা মহাসড়ক অবরোধ, ব্যারিকেডে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দেশজুড়ে নিত্যদিনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, `ব‘লক এভরিথিং’ বা “‘সবকিছু অচল করো’ কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এদিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্যারিসে রাস্তায় ব্যারিকেডে আগুন ধরানো হয়, রেললাইনের বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিমাঞ্চলীয় রেনে শহরে একটি বাসে আগুন লাগানো হয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিলেও সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৪৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বহু পুলিশ আহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ব্যয় সংকোচন নীতি সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে। এর মধ্যে সোমবার আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বাইরু পদত্যাগ করলে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। তার পরপরই ম্যাক্রোঁ ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। আর দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই দেশজুড়ে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, ম্যাক্রোঁ জনগণের দাবি উপেক্ষা করেছেন। তাদের মতে, সংসদ ভেঙে দেয়া অথবা একজন বামপন্থি নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াই ছিল যৌক্তিক সমাধান। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনকে প্রধানমন্ত্রী করার মধ্য দিয়ে তিনি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেতাইয়ো বলেন, এ বিক্ষোভ পরিকল্পিত। সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দেয়ার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, গ্রেফতার হওয়া অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত সৃষ্টির জন্য বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ আন্দোলনের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হয়ে মানুষ রাজপথে নেমেছে। তাদের ক্ষোভ কেবল ব্যয় সংকোচন নীতি নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক বৈষম্যসহ নানা ইস্যুতেও প্রতিবাদ জমা হচ্ছে।
সবার দেশে/কেএম




























