যুদ্ধবিরতির সুযোগে সামরিক শক্তি বেড়েছে
শত্রুর কৌশল এখন পুরোপুরি জানা—দাবি ইরানের
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতের যেকোনও সংঘাত মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের সামরিক কৌশল, সক্ষমতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে এখন তেহরানের কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
মঙ্গলবার (২ জুন) ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বী সাফ বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযান চালানো হলে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের যুদ্ধকৌশল এবং ভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত।
আইআরজিসির এ মুখপাত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়কে ইরান কেবল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য নয়, বরং সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচারণার বিপরীতে বাস্তবে এ সময়েই ইরানের সামরিক শক্তি আরও সুসংহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোহেব্বী সাফ বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো শত্রুপক্ষের সামরিক কৌশল ও সক্ষমতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন। আগে যেসব তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদন বা বিভিন্ন বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে মূল্যায়ন করা হতো, এখন সেগুলো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন প্রতিপক্ষের অস্ত্র ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, অপারেশনাল ঘাঁটি এবং যুদ্ধ পরিচালনার ধরন সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা রাখে। শত্রুর আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার পাশাপাশি তাদের কৌশলগত দুর্বলতাও এখন ইরানের কাছে স্পষ্ট।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তি অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতাও কমেনি। বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আগের মতোই বহাল রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার বৃহৎ সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা দেশটির সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার অন্যতম প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাবে ইরান অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হানে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সে সময় থেকে ইরান তার প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে বলে দাবি করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের এমন বক্তব্য মূলত প্রতিরোধ সক্ষমতার বার্তা দেয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
সবার দেশ/কেএম




























