ডিএনএ টেস্টে মেলেনি ধর্ষণের প্রমাণ
রামিসার গোপনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে সোহেল
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত না পাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি, ধর্ষণের পর আলামত নষ্ট করতে ভুক্তভোগীর শরীরের সংবেদনশীল অংশ ক্ষতবিক্ষত করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেছিলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ কারণেই ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেমিং) শুনানিতে বিষয়টি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালেই দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সোহেল রানা দাবি করেন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ‘ডলার’ নামের অন্য একজন ব্যক্তি জড়িত। তিনি বারবার বলেন, ধর্ষণ করেছে ডলার, হত্যাও করেছে ডলার। আমি শুধু লাশ গুম করার চেষ্টা করেছি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি। তবে মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
শুনানিতে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ দাবি করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় সোহেল রানার বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও নেই। তাই আসামিদের অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়।
এর জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আলামত নষ্ট করে ফেলার কারণেই ডিএনএ পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি চার্জশিটে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামি সোহেল রানা ভুক্তভোগীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতবিক্ষত করে এবং পরে পানি দিয়ে ধৌত করে। এতে ডিএনএ নমুনা নষ্ট হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির কথা বলে আসামি মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তদন্তে এ ধরনের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা অক্ষত ও শুষ্ক থাকা প্রয়োজন। কোনও কারণে নমুনা ধুয়ে গেলে বা পানির সংস্পর্শে এলে তা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরীক্ষার কার্যকারিতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
সবার দেশ/কেএম




























