গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা : ফিলিস্তিনের সমর্থন, এরদোয়ানের প্রশংসা
গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্তৃত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সোমবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে একে আন্তরিক ও দৃঢ় প্রচেষ্টা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সক্ষমতার প্রতি তারা আস্থা প্রকাশ করছে।
এর আগে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় আলোচনার পর হোয়াইট হাউস ২০ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি, হামাসের ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে, যার প্রধান থাকবেন ট্রাম্প নিজে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাবকে সৌদি আরব, জর্দান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও মিসর স্বাগত জানিয়েছে। এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, গাজায় রক্তপাত বন্ধ করা এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসনীয়। গত সপ্তাহে ছয় বছর পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক এই প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে থাকবে, যাতে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তা সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
প্রসঙ্গত, গাজায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি হামলার অন্যতম কণ্ঠশালী সমালোচক তুরস্ক। দেশটি এ হামলাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছে এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের দাবিও বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সোমবার রাতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌদি আরব, কাতার ও জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে ফোনালাপও করেছেন।
সবার দেশ/এফএস




























