কাবাঘরের কিসওয়াও পাঠানো হয়েছিলো এপস্টেইনকে
নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে সৌদি আরব থেকে কাবা আবৃত পবিত্র কাপড় কিসওয়ার কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিলো। এ চালানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয় এবং ২০১৭ সালে ফ্লোরিডার তার বাড়িতে পৌঁছায়।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি আবদুল্লাহ আল-মারির সঙ্গে কাজ করে কিসওয়ার তিনটি অংশ এপস্টেইনের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিসওয়া হলো কালো রঙের, সোনালি সূচিকর্ম করা কাপড়, যা ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবাকে আবৃত করে। মুসলমানদের কাছে এ কাপড়ের গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে; প্রতি বছর এটি কাবা থেকে সরিয়ে নতুন কাপড় বসানো হয় এবং পুরোনো অংশগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইমেইলে দেখা গেছে, কাপড়গুলো ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে বিমানপথে ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়েছিল। তিনটি আলাদা অংশের মধ্যে একটি কাবার ভেতর থেকে নেওয়া, একটি ব্যবহৃত বাইরের আবরণ থেকে নেওয়া এবং তৃতীয়টি অব্যবহৃত ছিলো। অব্যবহৃত অংশটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে দেখানো হয়। এপস্টেইনের বাড়িতে কাপড় পৌঁছানোর সময় তিনি ইতিমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।
আহমাদি একটি ইমেইলে কিসওয়ার ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে লিখেছেন, কালো অংশটি বিভিন্ন মতের অন্তত এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছেন। তারা কাবার চারপাশে সাতবার ঘুরে এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং এ অংশের ওপর তাদের প্রার্থনা, আশা ও অশ্রু রেখে যান।
নথিতে এও দেখা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ইরমার পর আহমাদি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে তার অবস্থার খোঁজ নেন। এপস্টেইনের সেক্রেটারি জানান, যদিও সবাই নিরাপদ ছিলেন, দ্বীপের বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে আহমাদি নতুন টেন্ট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দ্বীপটি এপস্টেইনের যৌন পাচারের কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
নথিতে আরও দেখা গেছে, এপস্টেইনের সহকারী লেসলি গ্রফ একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট আহমাদিকে পাঠান, যদিও এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। ইমেইলগুলোতে এপস্টেইন খুব কমই সরাসরি আহমাদির সঙ্গে কথা বলেছেন। এক বার্তায় আহমাদি গ্রফকে জিজ্ঞেস করেন, নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে তিনি কি মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়ে বিদায় ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।
প্রকাশিত এফবিআই স্মারকে বলা হয়েছে, এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। স্মারকে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
নথিগুলো এপস্টেইনের বিতর্কিত জীবন ও বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের নতুন দিক উন্মোচন করছে, যেখানে ধর্মীয় নিদর্শন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং গোপনীয় কার্যক্রমের সংমিশ্রণ দেখা যাচ্ছে।
সুবার দেশ/এফএস




























