সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদ গ্রামে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে দিনাজপুরসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ছেলে অরবিন্দ রায়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সতীশ চন্দ্র রায়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মোস্তফাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সতীশ চন্দ্র রায়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দিনাজপুর অঞ্চলে দলকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি তৎকালীন দিনাজপুর-৭ এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে সতীশ চন্দ্র রায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দলীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিরল উপজেলার মোস্তফাবাদ এলাকায় পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
প্রবীণ এ রাজনীতিকের মৃত্যুতে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করছেন রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
সবার দেশ/কেএম




























