সিন্ডিকেট ও অপচয় রোধে কঠোর নজরদারি
কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রতি বছর চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং সংরক্ষণ সংকট নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তা কমাতেই এবার আগাম প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কোরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করাও সরকারের অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে, উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় পর্যায় থেকে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, বন্ধ চিনিকল চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মতো প্রস্তাব এসেছে বলেও জানান তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে, ফলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তুলছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা হলেও দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি না হয়।
এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কুরবানির ঈদকে ঘিরে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনও চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং গণমাধ্যম ক্যাম্পেইন চালানো হবে। ঈদের পর সাতদিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের লক্ষ্য হলো—সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অপচয় কমানো এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।
সবার দেশ/কেএম




























