শ্রমিকের খাতায় নিজের নাম লেখাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নিজেকে শ্রমিকদের কাতারে দেখতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও শ্রমিকদের খাতায় নিজেদের নাম লেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সমাবেশে তিনি বলেন, একজন শ্রমিক হিসেবে আপনাদের খাতায় নাম লেখাতে চাই। আপনারা যেমন নানাভাবে দেশ গড়ার কাজ করছেন, আপনাদের পাশে নিয়ে আমিও সেভাবে ভূমিকা রাখতে চাই। এ সময় তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের উদ্দেশেও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের মর্যাদা উপলব্ধি করতে সবাইকে শ্রমিক পরিচয়ে গর্ববোধ করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, সেখানে শ্রমজীবী মানুষকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, ছাত্রসহ সব শ্রেণির মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেয়ার শপথও করান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক ও নারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক অধিকার নয়, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। সে কারণেই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতের অবস্থা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, শিল্প-কলকারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিলো। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রমজীবী মানুষ।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি খাতকে ধ্বংস করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আঘাত করা হয়েছে। শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। যারা উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি, তাদের অধিকার ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়েছে।
মে দিবসের এ সমাবেশে শ্রমিক নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান।
সবার দেশ/কেএম




























