সিরাজগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে শহরের বিভিন্ন সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের ইলিয়ট ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও খলিফাপট্টি এলাকায়।
দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও স্থানীয় লোকজন নিরাপদে সরে যান। সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকার স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু ও সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তারের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
এদিকে শহর যুবদলের সহসভাপতি সোহান আহমেদ শামীম সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিরুদ্ধে মিছিল করার সময় সাইদুর রহমান বাচ্চু ও ছাত্রদল সভাপতি সবুজের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার জবাব দেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নিজের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে তার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বাচ্চুর অভিযোগ, আব্দুস সাত্তারের সমর্থকেরা সংঘবদ্ধভাবে তার বাসায় ঢুকে হামলা চালিয়ে শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান বলেন, কী কারণে এবং কী নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























