প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে চিন্ময় দাস
কারাবন্দি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য তার প্যারোল মঞ্জুর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। পরে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নে শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে গিয়ে তিনি মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক তার পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে বের করা হয়। পরে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তাকে হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নে অবস্থিত পুণ্ডরীক ধামে নেয়া হয়।
সেখানে মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে তাকে আবার চট্টগ্রাম কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রাণী ধর মারা যান। ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ৭০ বছর বয়সী সন্ধ্যা রাণী ধর।
মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ভাই অঞ্জন কুমার ধর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আবেদনটি অনুমোদন করেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তাকে নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাগার থেকে বের করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশের পর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে পরে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। পরে এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায়ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি করা হয়।
মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেও আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
সবার দেশ/কেএম




























