লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, ৪ নৌকা জব্দ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ধরলা নদীতে বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। এ সময় নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি নৌকা নিয়ে গেছে বিএসএফ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দরসংলগ্ন ধরলা নদীর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলি ছোড়ার ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফের সদস্যরা কোনও কারণ ছাড়াই সীমান্তের প্রায় ১৫ গজ ভেতরে বাংলাদেশ অংশে এসে গুলি ছোড়েন। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে গুলি ছোড়ার বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকা দিয়ে আন্তঃসীমান্ত ধরলা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীর শূন্যরেখার বাংলাদেশি অংশে স্থানীয় কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন বিএসএফ সদস্য নদীর পাড়ে আসেন। এ সময় তাদের মধ্যে দুজন সদস্য অস্ত্র উঁচিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নদীতে থাকা বালু ও পাথর উত্তোলনের চারটি নৌকা বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিজিবির বুড়িমারী কোম্পানি সদরের কমান্ডার ভারতের পানিশালা ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সীমান্তে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রেজাউল করিম।
অন্যদিকে বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার ভিন্ন বিবরণ জানিয়েছে। এতে বলা হয়, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থান অতিক্রম করে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বরমতল নামক এলাকায় গেলে বিএসএফের পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ সময় নদীর পার থেকে চারটি নৌকা বিএসএফ সদস্যরা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যান।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে ঘটনার সময় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বিজিবির দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশি বালু ও পাথর উত্তোলনকারীরা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেননি। তারা বাংলাদেশ অংশেই অবস্থান করছিলেন।
এ বিষয়ে ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে বিএসএফ গুলি ছোড়ায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে তিনি বাইরে থাকায় ঘটনার বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। বিএসএফের গুলি ছোড়া এবং নৌকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সবার দেশ/কেএম




























