Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৭:০৯, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে বিস্ফোরক ভাষণ নাহিদ ইসলামের

রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি, ৭২-এর সংবিধানকে ‘মুজিববাদী’ আখ্যা

রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি, ৭২-এর সংবিধানকে ‘মুজিববাদী’ আখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রায় ৩৩ মিনিটের বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-কে অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানান, বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে ‘দেওলিয়াত্ব’ বলে অভিহিত করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘মুজিববাদী আদর্শের সংবিধান’ আখ্যা দেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সংস্কার ও নতুন সংবিধান নিয়ে নিজের দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

সংসদে দেয়া বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্য আমি শুনিনি, এ নিয়ে কিছু বলার আগ্রহ আমার নেই। তবে রাষ্ট্রপতির কিছু কূকীর্তি এ হাউজের সামনে তুলে ধরতে চাই।

এরপরই তিনি রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দুদকের কমিশনার হিসেবে শাহাবুদ্দিনকে তিনটি নির্দিষ্ট ‘এসাইনমেন্ট’ দেয়া হয়েছিলো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে দুর্নীতির মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত পদ্মা সেতু দুর্নীতি অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ‘ক্লিনচিট’ দেয়া এবং তৃতীয়ত ফখরুদ্দিন আহমদ ও মঈন উ আহমেদ-এর তত্ত্বাবধায়ক আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো থেকে দলটির শীর্ষ নেতাদের মুক্ত করা।

তিনি বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি এখনও রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখেছে। এটি বিএনপির দেওলিয়াত্ব। আমাদের দুর্ভাগ্য এ দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক, অপদার্থ এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। আমরা এখনও দাবি জানাই, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতার করতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিলো। তিনি দাবি করেন, জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু বিএনপি তাতে সম্মত হয়নি। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি বিকল্পও ছিলো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষায়, 

আমাদের হাতে দুটি অপশন ছিলো। জাতীয় সরকার করতে চেয়েছি, কিন্তু বিএনপি সেটি মানেনি। আরেকটি অপশন ছিলো, সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া। সেটা হলে বিএনপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারতো না।

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ না করার জন্য বিএনপিকেই দায়ী করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, 

সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে বাধা দিয়েছে বিএনপি। এখন তো সাংবিধানিক সংকট নেই। তাহলে কেনো এখন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না?

সংসদে ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা করেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ৭২-এর সংবিধানের মূলনীতিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেকে একাত্তরের সঙ্গে মিলিয়েছেন। এটা আওয়ামী লীগ মেলাতো। বাহাত্তরের মূলনীতিকে একাত্তরের মূলনীতি হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা সবসময় এর বিরোধিতা করেছি।

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, 

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন ১৯৭০ সালের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, যাদের মূল দায়িত্ব ছিলো পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা। সে সংবিধানকে তিনি ‘ইনহেরেন্টলি আনডেমোক্রেটিক’ বা অন্তর্নিহিতভাবে অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, এটি একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা দেয়ার সংবিধান। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এ সংবিধান করা হয়েছিলো। এতে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও কায়দা করে তার হাতে দেয়া হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের পরিবর্তে সংবিধানে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে স্থান দেয়া হয়েছিলো। তার ভাষায়, এটা মুজিববাদী আদর্শের সংবিধান।

তিনি দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এ সংবিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। যদিও তার হাতে নতুন গণপরিষদ নির্বাচন করে জনগণের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়নের সুযোগ ছিলো, তবে তিনি সেটি করেননি বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সংস্কার ও নতুন সংবিধান নিয়েও সংসদে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এ নেতা। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নতুন সংবিধান বা সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি তোলা হয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনমুখী অবস্থান নেয়ায় দুই পক্ষের পথ আলাদা হয়ে যায়।

তার ভাষায়, পাঁচ আগস্টের পর থেকেই আমাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। তখন আমরা একটা মধ্যমপন্থায় আসি। সেখান থেকে ঐকমত্য কমিশন, সংবিধান সংস্কার—এসবের আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বিএনপি যদি সে অবস্থান থেকে সরে যায়, তাহলে তাদের দলও আগের দাবিতে ফিরে যাবে। আমরা নতুন সংবিধান অথবা সংবিধান পুনর্লিখন চাই, বলেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, সনদ স্বাক্ষরের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি স্বাক্ষর করেনি। পরবর্তীতে তারা মতামত জমা দিলেও পূর্ণ সমর্থন দেয়নি।

তার অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পাশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করে জুলাই সনদকে ‘কলুষিত’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক কষ্টের ফসল জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করা হয়েছে।

বক্তব্যের শেষাংশে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, 

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি এবং এ প্রশ্নে তাদের অবস্থান ‘আনকমপ্রোমাইজিং’।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি এ প্রজন্মের যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তাদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনও সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই।

তার মতে, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান—দুটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে কোনোটি অন্যটির চেয়ে বড় বা ছোট—এমন দাবি তারা করেন না।

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এ ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রোমাইজিং, বলেন নাহিদ ইসলাম।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নোয়াখালীতে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন
১১ দেশ নিয়ে ভারতের সামরিক মহড়া, বাদ পড়লো বন্ধুরাষ্ট্র(?) বাংলাদেশ
পদত্যাগ না করেই নির্বাচনে লড়বো: তামিম ইকবাল
বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল
রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি, ৭২-এর সংবিধানকে ‘মুজিববাদী’ আখ্যা
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিভাগীয় সমাবেশে ১১ দলের
‘জুলাই সনদকে প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে বিএনপি’
শিক্ষকদের ওপর হামলার জেরে ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার
হরমুজ সংকটে বিশ্ব তেলবাজারে তাণ্ডব
দুই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আইভী
খাবারের টেবিল থেকে কলেজ শিক্ষককে তুলে হেনস্তা ছাত্রদলের
জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, একজন টিটনের গল্প
১০৩৫ কর্মী নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার
‘দুই মাসেই আওয়ামী কায়দায় দেশ শাসনের গন্ধ’
ট্রেনের নিচে পড়ে বেঁচে যাওয়া বাবা-ছেলের পরিচয় মিলেছে
দু’শ আসন পেয়ে মসনদের পথে মমতা?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে তোলার দাবি রুমিন ফারহানার
জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীতে চারজন গ্রেফতার