বিশ্ব গণমাধ্যমের কিংবদন্তির মহা প্রয়াণ
সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার আর নেই
বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদচ্যানেল CNN-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মার্কিন গণমাধ্যম জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব টেড টার্নার মারা গেছেন। বুধবার (৬ মে) আটলান্টা-এ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর।
টার্নার এন্টারপ্রাইজ এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।
২০১৮ সালে টেড টার্নার প্রকাশ্যে জানান, তিনি ‘লিউই বডি ডিমেনশিয়া’ নামের একটি জটিল মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
টেড টার্নার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-এ জন্ম নেয়া এ মিডিয়া উদ্যোক্তা ১৯৮০ সালের ১ জুন বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল হিসেবে CNN চালু করেন।
শুরুর দিকে অনেকেই তার এ উদ্যোগকে অবাস্তব ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সিএনএন বিশ্বজুড়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ চলাকালে সরাসরি যুদ্ধ সম্প্রচার করে সিএনএন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করে। একই বছর টেড টার্নারকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে টাইম ম্যাগাজিন।
স্পষ্টভাষী ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি ‘মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পারিবারিক বিলবোর্ড ব্যবসার দায়িত্ব নেন এবং সেখান থেকেই তার মিডিয়া সাম্রাজ্যের বিস্তার শুরু হয়।
পরবর্তীতে সংবাদ, খেলাধুলা, ক্লাসিক সিনেমা ও বিনোদনভিত্তিক একাধিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া ও বিনোদন শিল্পে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তিনি MGM/UA চলচ্চিত্র স্টুডিও অধিগ্রহণ করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে নিজের টার্নার ব্রডকাস্টিং সিস্টেম-কে টাইম ওয়ার্নার-এর সঙ্গে একীভূত করেন।
নতুন কোম্পানিতে তিনি কেবল নেটওয়ার্ক বিভাগের প্রধান ও সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার পর বড় করপোরেট কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েন। একপর্যায়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্কগুলোর ওপরও নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয় তাকে।
বিশ্ব গণমাধ্যমে টেড টার্নারের অবদান আজও অনন্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ২৪ ঘণ্টার সংবাদ সম্প্রচারের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তিনি সংবাদ জগতের চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























