যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ আখ্যা
মার্কিন বাহিনীকে ‘কবরস্থানে পাঠানোর’ হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই দাবি করেছেন, ইরান চাইলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বাহিনীকে ‘কবরস্থানে’ পাঠাতে সক্ষম।
রোববার (৩ মে) রুশ বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যাদের বিমানবাহী রণতরী আছে এবং যারা জলদস্যুদের মতো আচরণ করে। তাদের মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা শুধু যুদ্ধজাহাজ ডোবানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তোমাদের রণতরী ও বাহিনী কবরস্থানের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও।
তিনি আরও বলেন, ইসফাহানে যেভাবে তোমাদের বিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছিলো, তেমন পরিণতির জন্যও প্রস্তুত থাকো।
এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ মে এক বক্তব্যে স্বীকার করেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ‘জলদস্যুদের মতো’ আচরণ করেছে।
এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দুটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ—ম্যাজেস্টিক ও টিফানি—জব্দ করে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল ‘চুরি’ করেছে। ইরান এ ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।
তেহরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পাল্টা জবাব দেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। হোয়াইট হাউসের দাবি ছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিভিন্ন মতবিরোধের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে উভয় পক্ষ জানায়। পরে ২১ এপ্রিল আবারও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও সামরিক উত্তেজনা এখনও তীব্র আকারে বিদ্যমান রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























