সংস্কার এড়িয়ে চলছে সরকার
সংসদের প্রথম অধিবেশন ‘ব্যর্থ’: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার প্রশ্নে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনই একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের শেষ সেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সরকার তা না করে নিজেদের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনই আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ৫৪ বছর ধরে আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করেছিলেন। আবার বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, এনসিপি উচ্চকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ বন্ধ এবং প্রধানমন্ত্রীর একক নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে সর্বদলীয় ঐকমত্যভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
আমরা চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক, বিচার বিভাগের প্রকৃত পৃথকীকরণ হোক। এগুলো বাস্তবায়ন করলেই রাতারাতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে না, তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার সূচনা করবে, বলেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে টেকসই পরিবর্তন আসবে না। বিএনপি যদি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চায়, সেটিও টেকসই হবে না। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিক ভুল করেছিলেন। ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শন ফিরে আসার সুযোগ রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে যাচ্ছে। জুলাই সনদেও আলাদা নোট যোগ করা হয়েছে। যদি ক্ষমতায় আসা দল নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করে, তাহলে সনদের কার্যকারিতা কোথায় থাকে? সে কারণেই আমরা গণভোটের দাবি তুলেছি।
জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই বারবার হোঁচট খেলে জনগণকে আবার রাজপথে নামতে হয়। আমরা সে পরিস্থিতি চাই না।
সবার দেশ/কেএম




























