জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে লড়াই
চার দশক পর আবারও বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিন। ফলে আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে এখন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের এ পদে বাংলাদেশ প্রায় চার বছর আগে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলো। তবে শেষ মুহূর্তে ফিলিস্তিনও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোয় এখন মূল লড়াইয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–কে মনোনয়ন দিয়েছেন। কূটনৈতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে সমর্থন আদায়ে সক্রিয় প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রায় ৪০ বছর পর আবারও এ মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১তম অধিবেশনে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলো।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিলো। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাংলাদেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার অনুরোধ জানায় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। সভাপতি সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। যদিও এটি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন পদ নয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নীতিগত আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করে।
ফিলিস্তিনের সরে দাঁড়ানোর ফলে নির্বাচনী সমীকরণ এখন অনেকটাই স্পষ্ট। জুনে অনুষ্ঠিতব্য ভোটে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনই নির্ধারণ করবে কে ৮১তম অধিবেশনের নেতৃত্ব দেবেন। চার দশক পর আবারও এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর জুনের নির্বাচনের দিকে—বাংলাদেশ আবারও কি ইতিহাস গড়তে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।
সবার দেশ/কেএম




























