বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি বাংলাদেশ
জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী কাঠামোর একটি—শান্তি বিনির্মাণ কমিশন (পিসিবি)—এ ২০২৬ সালের জন্য সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে কমিশনের পাঁচ সদস্যের ব্যুরো নির্বাচনের মাধ্যমে এ দায়িত্ব নিশ্চিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর কমিশনের ২০তম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে এ দায়িত্ব দেয়ায় কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কমিশনের ২০তম অধিবেশনে মরক্কোকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাড়াও জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে শেফ ডি ক্যাবিনেট উপস্থিত থেকে শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শান্তি বিনির্মাণ কমিশন কী কাজ করে
শান্তি বিনির্মাণ কমিশন একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সংস্থা, যা সংঘাত-পরবর্তী দেশগুলোতে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কৌশল, সমন্বয় ও সহায়তা প্রদান করে।
কমিশনটি ৩১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এসব সদস্যকে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি সেনা ও অর্থ সহায়তা দেয়া দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচন করা হয়।
২০০৫ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এর সক্রিয় সদস্য। এর আগে বাংলাদেশ ২০১২ ও ২০২২ সালে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ দায়িত্ব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শান্তিরক্ষা ও সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।
সবার দেশ/কেএম




























