খোলা চিঠিতে অভিযোগ বিদায়ী কমিশনারদের
মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য উপস্থাপন
সদ্য বিদায় নেয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাঁচজন কমিশনার এক যৌথ ‘খোলা চিঠিতে’ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই তারা এ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তারা বলেন, গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চিঠিতে কমিশনাররা তিনটি মূল বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন— সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের জবাব, অধ্যাদেশ বাতিলের পেছনে সরকারের প্রকৃত আপত্তি এবং ভবিষ্যৎ আইনের মানোন্নয়নের প্রস্তাব।
তাদের দাবি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি একটি ‘প্রিন্সিপাল আইন’, যার ওপর ভিত্তি করেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ সংক্রান্ত আইন দাঁড়িয়ে আছে।
সংসদে উত্থাপিত তথ্যের জবাবে বিদায়ী কমিশনাররা দুটি বিষয়ে বিশেষভাবে ব্যাখ্যা দেন। একটি হলো গুমের শাস্তি, অন্যটি তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা বিষয়ক ধারা।
তারা বলেন, সংসদে বলা হয়েছে গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ১০ বছর, যা ভুক্তভোগীদের জন্য অবিচার। কিন্তু বাস্তবে গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রাভেদে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা প্রসঙ্গে তারা বলেন, সংসদে বলা হয়েছে অধ্যাদেশে এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। তবে বাস্তবে তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করলে শাস্তির ব্যবস্থাও আছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের পুনর্বহালকৃত মানবাধিকার কমিশন আইনে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিধান অনুপস্থিত। তাই ভুক্তভোগীদের স্বার্থ ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
বিদায়ী কমিশনাররা জানান, ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ নয়, বরং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তারা এ অবস্থান জনসমক্ষে এনেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























