৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেটের ইঙ্গিত
সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু আজ
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) শুরু হচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট অধিবেশন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট হতে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এ বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকার বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের কারণে বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিলো ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। সে তুলনায় এবার বাজেট প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে, যদিও সাধারণত বাজেট বৃদ্ধির হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চাপের মধ্যে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক বাজার অস্থিরতা বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ, বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ভর্তুকি খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় রাখা হয়েছে। খাদ্য খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি, বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি এবং অন্যান্য খাতে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হলেও আগামী অর্থবছরে তা সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকছে। তবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় এই লক্ষ্য অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আরও ১ হাজার ৮৫৭ জনকে ভাতা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতিভিত্তিক ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বিকাশে বিশেষ তহবিল ও প্রণোদনার কথাও বাজেটে থাকতে পারে।
এছাড়া নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবার দেশ ডেস্ক




























