৪৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
এডিবির ঋণে রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার
বাজেট সহায়তা হিসেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এ অর্থ যোগ হওয়ায় দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা গত ৪৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান।
রোববার (১৪ জুন) দিনশেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এডিবির ঋণের অর্থ যুক্ত হওয়ার পর এক ধাক্কায় রিজার্ভে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতিতে হিসাব করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব আন্তর্জাতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তব ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের চিত্র তুলে ধরে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বিপিএম৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিলো। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ শুরু করে। সে সময় এ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিলো ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। তখন রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলো। তবে পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং অর্থপাচারসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও চাপ বাড়ে। একসময় ৮৪ টাকার মধ্যে থাকা মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বেড়ে ১২০ টাকার সীমাও অতিক্রম করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় বিপিএম৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে এসেছিলো ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। সে অবস্থান থেকে বর্তমানে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াকে অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রফতানি আয়ের উন্নতি, বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর বাজেট সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে আমদানি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
সবার দেশ/কেএম




























