সীমান্ত ইস্যুতে গোলটেবিলে তীব্র সমালোচনা
‘হাসিনাকে পুশইন করুন, দেখি কত সাহস’
ভারত থেকে বাংলাদেশে কথিত ‘পুশইন’ এবং সীমান্ত হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার মুসলমানদের লক্ষ্য করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে পাঠাচ্ছে।
শনিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন।
বক্তারা বলেন, যদি সত্যিই অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেন পুশইন করা হচ্ছে না, সে প্রশ্নের জবাব ভারতকে দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, ভারতের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেই অন্য দেশের ওপর ইচ্ছামতো চাপিয়ে দেয়া নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও তারা পিছপা হবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন লায়ন মো. ফারুক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল, আরিফুল ইসলাম জিয়া, গিয়াস উদ্দিন খোকন, সাইফুল্লাহ মানসুর আবির এবং জসিম উদ্দিন কবির। সভায় সভাপতিত্ব করেন কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন।
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনারের বাংলাদেশ ও ভারতের জনসংখ্যা একীভূত করার প্রসঙ্গসংক্রান্ত বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনোও ধরনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ফারুক রহমান বলেন, সীমান্ত সমস্যার সমাধান অবশ্যই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে তা দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন, সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সীমান্তে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তারা সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সরকারের আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সীমান্তে পুশইন, হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























