রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: বঙ্গভবন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে ঘিরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দেশে ফেরার অপেক্ষা। তিনি দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র ঠিক কখন এবং কী প্রক্রিয়ায় তার কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেই হিসেবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সঙ্গে সংবিধানে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ফলে পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে জোরালো হতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার দায়িত্বে থাকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
সম্প্রতি সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও এ ইস্যু সামনে আসে। রাষ্ট্রপতির প্রারম্ভিক ভাষণের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং পদত্যাগের দাবি তোলেন।
মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বঙ্গভবনের সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকাল ছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল অধ্যায়। তার মেয়াদকালেই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজন ভিন্ন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করানোর নজিরও স্থাপন করেছেন। তার পদত্যাগ কার্যকর হলে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সবার দেশ/এফও




























