পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সেখানে পদত্যাগ-পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ফলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলে জোরালো হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার দায়িত্বে থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির প্রারম্ভিক ভাষণের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান এবং তার পদত্যাগের দাবি উত্থাপন করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর নয় মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকাল ছিল দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল অধ্যায়। তার মেয়াদকালেই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজন ভিন্ন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করানোর বিরল নজির স্থাপন করেন। তার পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হলো এবং এখন শুরু হচ্ছে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
সবার দেশ/এফও




























